লোকনিন্দা ও অপবাদের পরোয়া করে না মুসলমান





লোকে কী বলবে?
তারা কি এটা মেনে নেবে বা অনুমোদন করবে?
তারা পরিহার করবে না-তো?

এজাতীয় প্রশ্ন আমাদের সব কাজে প্রভাব বিস্তার করে বসে; বিশেষ করে সে কাজের সঙ্গে যদি জনগণের কোনোরূপ সংশ্লিষ্টতা থাকে। সামাজিক চাপ একটা বড় শক্তি, যা আমাদের মনে এই শঙ্কা জাগিয়ে তোলে যে, আমরা যেন অপমানিত না হই, সমালোচনা অথবা বিদ্রূপের শিকার না হই।

একটি সৎ সমাজে এটা ভালো ও
ইতিবাচক উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারে; কারণ এখানে খারাপ-ভালোর প্রশ্নের চেয়েও দুর্নামের ভয় এড়িয়ে চলার একটা তাগিদ সক্রিয় থাকে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে অন্য একটি প্রতিক্রিয়াও জেগে ওঠে, যা অপশক্তির সহায়ক; কারণ দুর্নামের ভয়ে মানুষ এমন সব কাজ করতে বাধ্য হয়, যাকে সে অনুচিত বলে মনে করে এবং উচিত জেনেও অনেক কাজ থেকে সে বিরত থাকে। ভালো-মন্দ বা উচিত-অনুচিতের প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত অপশক্তির প্রভাবে গ্রহণযোগ্য কি গ্রহণযোগ্য নয়, এটাই মুখ্য হয়ে ওঠে।

Read more: লোকনিন্দা ও অপবাদের পরোয়া করে না মুসলমান

লক্ষ্যহীন উদ্দেশ্যহীন - এ জীবন মুসলিমের নয়

অধিকাংশ মানুষ এই ভুল ধারণা নিয়ে বেঁচে থাকে যে, তাদের জীবনের একটি ভিশন আছে, একটি উদ্দেশ্য আছে, কিন্তু বাস্তবে এর কিছুই নেই। জীবনে টার্নিং পয়েন্ট বা key- decision কি হবে সেটা নিজেরাও জানেন না কিংবা স্থির করেননি। অনেকেই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পান না, এর মূল কারণ তারা নিজেদেরকে কখনো প্রশ্ন করেননি, যদি তাদের একটি স্পষ্ট ভিশন থাকতো, আসলে আমি কে, কি হতে চাই, আমার সমস্যা সম্ভাবনা কোথায় তাহলে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে কেউ ব্যর্থ হতো না।

যেকোন সফল ব্যক্তির প্রধান কোয়ালিটি হচ্ছে সে একটি মিশন পূরণ করার জন্য বেঁচে থাকে। গড়পড়তা ব্যর্থ মানুষদের কোন লক্ষ্য উদ্দেশ্য নেই, তারা শুধু বেঁচে থাকার জন্য বেঁচে থাকে, একটি দিনের পর নিছক আরেকটি দিন পার করার জন্য বেঁচে থাকা। তাদেরকে অনুপ্রাণিত করার জন্য কোন অনুপ্রেরণাই যথেষ্ট নয়, কোন মহান উদ্দেশ্য না থাকায় তাদের জীবনটাও মহান হয় না।

Read more: লক্ষ্যহীন উদ্দেশ্যহীন - এ জীবন মুসলিমের নয়

ভয় ও সাহস



  • ২২৪ আবু হুরাইরা বর্ণনা করেন, একজন দুর্বল মুমিন অপেক্ষা একজন শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর নিকট বেশি প্রিয় (মুসলিম)


  • ২২৫ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায়শই দুয়া করতেন, ইয়া আল্লাহ ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখবোধ থেকে; উদাসীনতা ও অলসতা থেকে; কাপুরুষতা, কৃপণতা এবং বার্ধক্যের চরম পর্যায় থেকে, এবং আরও আশ্রয় চাই কবরের আযাব হতে (বুখারী-মুসলিম)


লক্ষ্য করুন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইতে গিয়ে দুশ্চিন্তা এবং দুঃখবোধ দুটি বিষয়কে একত্রিত করেছেন। দুশ্চিন্তা হচ্ছে এমন কিছুর কারণে ভীত হওয়া যা এখনো আসেনি, ভবিষ্যতে আসতে পারে, আর দুঃখবোধ হচ্ছে অতীতে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা, যা চলে গেছে তার কারণে মন খারাপ করে থাকা, বিষণ্ণতা। কাজেই, একজন মুসলিম সে বিষন্ন হতে পারে না, হোক সে ঘটনা অতীতের কোন কিছু কিংবা ভবিষ্যতের। এবং তিনি আরও একত্রিত করেছেন, উদাসীনতা ও অলসতাকে। কারণ, উদাসীনতা হচ্ছে মানসিক অকর্মণ্যতা, আর অলসতা হচ্ছে দৈহিক অকর্মণ্যতা। তিনি একত্রিত করেছেন, কৃপণতা ও কাপুরুষতাকে; কৃপণতা হচ্ছে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সম্পদ ব্যয় করার ব্যাপারে সংকীর্ণতা অনুভব করা, আর কাপুরষতা হচ্ছে আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজেকে, নিজের আত্মাকে বিলিয়ে দেয়ার ব্যাপারে সংকীর্ণতা অনুভব করা।

Read more: ভয় ও সাহস

আল ওয়াহান – মুসলিমদের একটি ঘাতক ব্যাধি

 



আমরা এমন জাতি যারা নিতান্ত তুচ্ছ, নীচু জাত ছিলাম,
আল্লাহ আমাদের মর্যাদা উঁচু করে দিয়েছেন ইসলামের
মাধ্যমে। আমরা যদি অন্য কোন উপায়ে সম্মান কামনা
করি, তবে আল্লাহ আবারো আমাদের নীচু করে দেবেন

~ উমর হু~উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু


যারা মুসলমানদের বর্জন করে কাফেরদেরকে
নিজেদের বন্ধু বানিয়ে নেয়
এবং তাদেরই কাছে সম্মান প্রত্যাশা করে,
অথচ যাবতীয় সম্মান শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্যসূরা নিসা ১৩৯

Read more: আল ওয়াহান – মুসলিমদের একটি ঘাতক ব্যাধি

বাচনভঙ্গী ও কথার কৌশলের মাধ্যমে মিথ্যা থেকে বাঁচার কিছু উপায়


মিথ্যা থেকে বাঁচার উপায়

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

মিথ্যা যে একটি বদ অভ্যাস তাতে কেউ সন্দেহ করে বলে আমি মনে করি না, কারণ মিথ্যাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধ্বংসকর বলে মন্তব্য করেছেন আরো বলেছেন, মিথ্যা মুনাফেকীর নিদর্শন। মানুষ মিথ্যা বলতে বলতে এক সময় আল্লাহর দরবারে মিথ্যাবাদী বলে সাব্যস্ত হয়। আর সত্য বলা ও সত্য বলার প্রচেষ্টায় রত থাকলে আল্লাহ্ তাকে সত্যবাদী বলে লিখে নেন; এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীসের ভাষ্যই উদ্ধৃত করলাম।

আসুন একটি উদাহরণ দেখিঃ
কথা উঠেছিল আমাদের এক শিক্ষককে নিয়ে যিনি মিথ্যা কথা বলতে ছাত্রদেরকে নিষেধ করতেন। একদা আমরা তার বৈঠকখানায় অবস্থান করছিলাম, এমতাবস্থায় সেখানে এমন এক লোক এসে উপস্থিত যাকে তিনি পছন্দ করতেন না। আসা মাত্রই লোকটি প্রশ্ন করলো: তোমাদের গুরুমশাই কোথায়? আমরা জানতাম যে, উস্তাদজী তার সাথে দেখা করতে চান না; অথচ আমাদেরকে মিথ্যা বলতে নিষেধ করেছেন। এ পরিস্থিতিতে আমাদের মধ্যকার সর্বকনিষ্ঠ জন সভয়ে বলে ফেললো যে, তিনি পাশের ফ্লাটে আছেন। উস্তাদজীকে তার কথামত ডাকা হলো, তিনি আসলেন এবং তার সাথে জরুরী কথাবার্তা সারলেন।

Read more: বাচনভঙ্গী ও কথার কৌশলের মাধ্যমে মিথ্যা থেকে বাঁচার কিছু উপায়

More Articles...

  1. “আমি পারব না, এটা অসম্ভব ! ”
  2. পরাজিত মানসিকতার মুসলিম
  3. সুখের সন্ধানে...
  4. ‘আগে মূলধন রক্ষা, পরে লাভ করার চেষ্টা’ - ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব অনুযায়ী ধারাবাহিকতা রক্ষা
  5. মুমিনদের জন্যে আল্লাহর পক্ষ হতে ২৫টি প্রতিশ্রুতি
  6. 'তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হলো'
  7. সরকারের অনুগত দুনিয়ালোভী আলেম
  8. আল্লাহর আরশে অবস্থান ও আমাদের নিকটে থাকা
  9. সূরা কাহাফে লুকানো রহস্য ও দাজ্জাল
  10. বছর শেষ, কিন্তু কি পেলাম ?
  11. কেন আমার ইসলাম অধ্যয়ন করা উচিত?
  12. অনর্থক অপ্রয়োজনীয় বিষয় ত্যাগ করা
  13. মুসলমানের ১৫ টি প্রশংসনীয় চারিত্রিক গুনাবলী
  14. তাকওয়া-মুসলিম জীবনের সর্বোত্তম পাথেয়
  15. বাক্যের মধ্যে 'যদি'ব্যবহার সংক্রান্ত আলোচনা
  16. শয়তানের প্রবেশপথ-(৪/৪)
  17. শয়তানের প্রবেশপথ-(৩/৪)
  18. রুগ্ন ও ব্যাধিগ্রস্ত অন্তরের ৩১টি বৈশিষ্ট্য
  19. প্রশংসনীয় বিতর্কের উনিশটি শর্ত
  20. ঝগড়া-বিবাদ মানুষের স্বভাবের সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত